International Journal For Multidisciplinary Research

E-ISSN: 2582-2160   •   Impact Factor: 9.24

A Widely Indexed Open Access Peer Reviewed Multidisciplinary Bi-monthly Scholarly International Journal

Call for Paper Volume 8, Issue 6 (November-December 2026) Submit your research before last 3 days of December to publish your research paper in the issue of November-December.

অভিলেখ শাস্ত্রের পরিচয় : একটি অধ্যায়ন

Author(s) Dr. Karim Sk
Country India
Abstract ‘Epigraphy’ একটি গ্রীক শব্দ। বিদ্বান ব্যক্তি অভিলেখের বর্ণনাত্মক তথা বিশ্লেষনাত্মক অধ্যায়ণ কে এপিগ্রাফীর’ সংজ্ঞা দিয়েছেন। অর্থাৎ সরল সহজ ভাষায় বলা যায় যে, কোন কিছুকে নির্দিষ্ট করে তার উপর যা কিছু লেখা হয় তাকে বলা হয় ‘এপিগ্রাফী’। ‘এপিগ্রাফী’ (Epigraphy) এবং ‘ইনস্ক্রিপসন’ (Inscription) কে পর্যায়বাচী শব্দ বলা হয়। ‘Inscription’ শব্দটি ল্যাটিন ভাষা থেকে পাওয়া যায়, যার অর্থ উপরে লেখা। যেমন Epigraphy শব্দ ‘epi’ এবং ‘grapy’ এই দুই শব্দের দ্বারা তৈরী হয়, যার অর্থ উপরে লেখা। Dr. Sarkar -এর ভাষায় বলা যায় যে- Inscription Literally means only writing, engraved on some object ..
অভিলেখ ইতিহাসের পুষ্টি তথা শৃঙ্খলাবদ্ধ প্রামাণিক ইতিহাস প্রস্তুত করতে ইতিহাসবিদ তথা পুরাতত্ত্ব বিদদের জন্য মার্গ দর্শকের কাজ করে। অভিলেখের অধ্যায়ন কে ‘Epigraphy’ বলা হয়। অভিলেখ প্রাচীনকাল থেকেই পাথর, শিলাখণ্ড, মন্দির, স্তম্ভ তথা তাম্রপত্র ইত্যাদির উপর উৎকীর্ণ করা হত। কালান্তরে ভারতবাসী নিজস্ব প্রাচীন লিপির (ব্রাহ্মী, খরোষ্ঠী) জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিল। এই কারণে মুঘলদের ভারত আসার পূর্বে শৃঙ্খলাবদ্ধ ইতিহাস প্রাপ্ত হয়নি, এরপর মুগল বাদশাহ আকবর অভিলেখ বিষয়ক জিজ্ঞাসা প্রকট করেছিল। কিন্তু সফলতা পায়নি। পরে ইংরেজদের শাসনকালে শ্রেয় জেমস প্রিন্সেপ নামক ইউপরোপীয় বিদ্বান অভিলেখ পড়ার প্রয়াস করেন এবং পরে ভারতবর্ষের প্রাচীন ইতিহাসের অন্বেষণ তথা শোধ প্রারম্ভ হয়েছে। প্রাচীন শিলালেখ, দানপত্র, সিক্কা, মুদ্রা, মূর্তি ইত্যাদির সংগ্রহ, অধ্যায়ন, অধ্যাপন, তথা শোধ কার্যে পুরাতত্ত্ববিদ্ আধুনিক সময় পর্যন্ত নিরন্তর সংলগ্ন ছিল। প্রাচীন ভারতীয় অভিলেখ শৃঙ্খলাতে মৌর্যবংশীয় অভিলেখে অশোকের ১৪ শিলালেখ, ৭ স্তম্ভলেখ তথা অন্য লঘু লেখও প্রকাশে আসে। এই অভিলেখ অধিকাংশতঃ প্রাকৃত ভাষা এবং ব্রাহ্মী লিপিতে উৎকীর্ণ আছে। পাষাণ, শিলা তথা স্তম্ভের উপর উৎকীর্ণ অভিলেখের অধ্যায়নের পূর্বে তিনটি মহত্ত্বপূর্ণ চরণ আছে-
i) প্রথম চরণে অভিলেখের প্রতিলিপি নেওয়া হয়, যাকে প্রতিচিত্রণ বলা হয়।
ii) দ্বিতীয় চরণে অভিলেখের বর্ণের পরিচয় এবং ঐ অভিলেখকে অধ্যয়ন করা।
iii) তৃতীয় চরণে ঐতিহাসিক, ভৌগলিক, সংস্কৃতিক ইত্যাদি দৃষ্টি থেকে অভিলেখের বিশ্লেষণাত্মক ব্যাখ্যা প্রস্তুত করা হয়।
স্মৃতিচন্দ্রিকাতে লেখ্যর বিষয়ে বকলা হয়েছে যে- লৌকিক এবং রাজকীয় ভেদে লেখ্য দুই প্রকার। রাজকীয় লেখ্য পুনরায় চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
“শাসনং প্রথমং ঞ্জেয় জয়পত্রং চ তথাপরম্। আঞ্জাপ্রজ্ঞাপনপত্রে রাজকীয়ং চতুর্বিধম্ ।।“
বস্তুত : উপলব্ধ সমস্ত অভিলেখ ধর্মশাস্ত্র এবং সাহিত্যে নির্দিষ্ট লেখের প্রকারভেদে পর্যাপ্ত সাম্য রাখে। বামন শিবরাম আপ্টে ইতিহাস শব্দের পরিভাষা দিতে গিয়ে বলেন (ইতি+ই+আস)। অস্ ধাতু, লিট্ লাকার, অন্য পুরুষ, একবচন। (পরস্পর থেকে প্রাপ্ত আখ্যান সমূহ) -
ধর্মার্থকামমোক্ষাণামুপদেশসমন্বিতম্ ।
পূর্ববৃত্তং কথাযুক্তমিতিহাসং প্রচক্ষতে ।।
বস্তুত : বেদ, পূরণ, মহাভারত, রামায়ণ, ঐতিহাসিক গ্রন্থ, মহাকাব্য, গীতিকাব্য, গদ্যকাব্য, নাটক, নীতি সাহিত্য তথা চম্পু আদি বিধিকে সংস্কৃত সাহিত্য নামে জানামায়। প্রাচীন গৌরবযুক্ত ভারতবর্ষের মুঘগদের এখানে আসার পূর্বের (প্রায় ১৫২৬ ইসা) শৃঙ্খলাবদ্ধ বাস্তবিক ইতিহাস প্রাপ্ত ছিল না। অভিলেখের স্পষ্টীকরণের পশ্চাৎ প্রাচীন ভারতীয় শৃঙ্খলাবদ্ধ ইতিহাস প্রকাশিত হয়। বিদ্বান্ এই বিষয়ে একমত হয় কি- “The science of Epigraphy has been developing steadily since the 16th century” অভিলেখের লিপির স্পষ্টীকরণের শুভারম্ভের শেষ্টতা ইষ্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানীর সাথে আসা ব্রিটিশ বিদ্বানদের দেওয়া যায়।
Keywords মূলশব্দ (Keywords) : অভিলেখ, উৎকীর্ণ, ব্রাহ্মী লিপি, খরোষ্ঠী লিপি, প্রতিচিত্রণ, শিলালেখ, দানপত্র, সিক্কা, মূদ্রা, মূর্তি ।
Field Arts
Published In Volume 8, Issue 2, March-April 2026
Published On 2026-03-31

Share this