International Journal For Multidisciplinary Research

E-ISSN: 2582-2160     Impact Factor: 9.24

A Widely Indexed Open Access Peer Reviewed Multidisciplinary Bi-monthly Scholarly International Journal

Call for Paper Volume 8, Issue 2 (March-April 2026) Submit your research before last 3 days of April to publish your research paper in the issue of March-April.

অন্ত্যজ ও আদিবাসী গোষ্ঠীর মানুষদের শিক্ষাদানের মাধ্যমে সামাজিক উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে মহাশ্বেতা দেবী রচিত ছোটগল্পের প্রভাব

Author(s) Sukanya Paul
Country India
Abstract মহাশ্বেতা দেবী ছিলেন বাংলা কথাসাহিত্যের এক অনন্য প্রতিভা, যাঁর লেখনী শোষিত, প্রান্তিক, ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জীবনের বাস্তবতাকে জাগ্রত করেছে। বাংলা সাহিত্যে বিষয়ের বহুমাত্রিকতা ও দেশজ আখ্যানের অনুসন্ধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন মহাশ্বেতা দেবী। প্রতিবাদী জীবন ও সাহিত্যের এক স্বতন্ত্র ঘরানার লেখিকা তিনি। তিনি শুধু সাহিত্যিক ছিলেন না, বরং মানবাধিকার আন্দোলনের এক গুরুত্বপূর্ণ কণ্ঠস্বর। বিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে অভিজাত ও মধ্যবিত্ত শিক্ষিত সম্প্রদায়ের জায়গায় বাংলা সাহিত্যের চরিত্র হিসেবে প্রকাশ করল জেলে, বাগদী, ডোম, মুন্ডা, সাঁওতাল, ওঁরাও, শবর প্রভৃতি সম্প্রদায়। সাম্প্রতিককালে বাংলা কথা সাহিত্যে অসংখ্য ঔপন্যাসিক ও ছোটগল্পকারেরা অন্ত্যজ ও আদিবাসী গোষ্ঠীর জীবনকে অবলম্বন করে বহু বিচিত্র ও নব নব রূপায়নে বাংলা কথাসাহিত্যকে সমৃদ্ধ করে চলেছে তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন মহাশ্বেতা দেবী। মহাশ্বেতা দেবীর ছোটগল্পগুলি অন্ত্যজ ও আদিবাসী বিশেষত লোধা, শবর, জেলে, বাগদী, ডোম, মুন্ডা, সাঁওতাল প্রভৃতি গোষ্ঠীর সামাজিক উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে একটি শক্তিশালী হাতিয়ার যা শোষণ ও বঞ্চনার চিত্র তুলে ধরে শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা ও অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করেছেন তাঁর সাহিত্যিক সক্রিয়তা। তাঁর অমর রচনাগুলো যেমন ‘অরণ্যের অধিকার,’ ‘হাজার চুরাশির মা,’ এবং ‘রুদালী’ শোষণ, প্রতিবাদ এবং সংগ্রামের অমোঘ দলিল। মহাশ্বেতা দেবীর সাহিত্য নারীর শোষণ, আদিবাসীদের সংগ্রাম, এবং নিম্নবর্গীয় জীবনের প্রতিচ্ছবি হয়ে বাঙালি জাতির মধ্যে নবজাগরণের আলো জ্বালিয়েছে। তাঁর লেখনী সমাজ, সংস্কৃতি এবং ইতিহাসের গভীর বোধকে ধারণ করে একটি চিরকালীন মানবিকতা প্রতিষ্ঠা করেছে। আদিবাসীদের নিজস্ব সংস্কৃতির মর্যাদা রক্ষা করে, রাষ্ট্র ও সামন্তবাদী ব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর হিসেবে তাদের সুপ্রতিষ্ঠিত করেন। মহাশ্বেতা দেবীর ছোট গল্পগুলিতে শুধুমাত্র আদিবাসীদের যুগ যুগান্তরের অধিকারের জন্য সংগ্রামের কাহিনী লিপিবদ্ধ করা হয় নি, সেইসঙ্গে অন্ত্যজ ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সমাজ ব্যবস্থা ও সংস্কৃতির যথাযথ পরিচয়ও দান করা হয়েছে। 'দ্রৌপদী' বা 'ধৌলী’র মতো গল্পে তিনি আদিবাসী নারীদের সামাজিক ও শারীরিক শোষণের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ করেছেন। শিক্ষার মাধ্যমে এই নারীরা যে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনের হাতিয়ার হতে পারে, তা তাঁর লেখনীতে ফুটে ওঠে। মহাশ্বেতা দেবী কেবল কলম ধরেননি, বাস্তবেই আদিবাসীদের শিক্ষার আলোয় আনতে কাজ করেছেন। তাঁর গল্পের চরিত্ররা (যেমন 'রুদালী'র শনিচরি) নিজেদের লড়াইয়ের মাধ্যমে শোষক শ্রেণির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়, যা আদিবাসী সমাজকে নিজস্ব প্রতিবাদ গড়ে তোলার সাহস জোগায়। সংক্ষেপে, মহাশ্বেতা দেবীর গল্প আদিবাসী ও অন্ত্যজ গোষ্ঠীকে তাদের ‘নিজেদের কণ্ঠস্বর’ শুনতে এবং অধিকার ছিনিয়ে নিতে শিখিয়েছে, যা শিক্ষা ও সামাজিক সচেতনতার মাধ্যমে ক্ষমতায়নের পথ প্রশস্ত করেছে।
Keywords অন্ত্যজ, আদিবাসী জনগোষ্ঠী, সামাজিক উন্নয়ন, ক্ষমতায়ন, নারীর প্রতিবাদ, শোষণ, সামাজিক নীতি
Field Sociology > Linguistic / Literature
Published In Volume 8, Issue 2, March-April 2026
Published On 2026-04-10
DOI https://doi.org/10.36948/ijfmr.2026.v08i02.74192

Share this